ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

রায়পুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার, বিপুল পরিমানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ads

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তারসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে রায়পুরা থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান রায়পুরা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বকর সিদ্দীক পিএসসি।সেনাবাহিনী জানায়, বুধবার সকালে রায়পুরা আর্মি ক্যাম্প, রায়পুরা থানার পুলিশের যৌথ টিম ও রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানাসহ রায়পুরার চরাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য টহল দিচ্ছিলো।


এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা খবর পেয়ে শ্রীনগরের গোপীনাথপুর গ্রামের নওয়াবপুর, সায়দাবাদ ও পাড়াতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. জালাল মিয়া ও তার ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. আকরাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার সায়দাবাদ গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে মো. জালাল উদ্দিন (৬৫) ও ছেলে শুটার ইকবাল ওরফে আকরাম হোসেন (৩৫)।


অভিযানকালে বাঁশগাড়ি ও পাড়াতলী এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ২টি এক নলা বন্দুক, দেশীয় ওয়ান শুটার গান ১টি, রামদা, ২টি ডেগার, ৪টি ছুরি, ২টি চাপাতি, ৮টি কার্তুজ, ৫ রাউন্ড গুলি, ৩টি দেশীয় বল্লম, ২২টি পটকা, ১টি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, ১টি ছোট ব্যাগ, ২টি বন্দুকের কভার, ১৫টি বাটন ফোন, ৫টি এন্ড্রয়েড মোবাইল, ১টি আইফোন, ১টি মানিব্যাগসহ একটি জাতীয় পরিচয় পত্র।


লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু বকর সিদ্দীক আরও জানান, গ্রেফতারকৃত জালালের বিরুদ্ধে দুইটি খুনসহ ৪টি মামলা ও আকরামের বিরুদ্ধে একটি খুন, অস্ত্র মামলাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। ব্রিফিংয়ে নরসিংদী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, আসন্ন নির্বাচনে রায়পুরার কোনো কেন্দ্রে যেনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম না চালাতে পারে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অভিযান আগামীতেও করা হবে বলে জানান তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) সুজন চন্দ্র সরকার, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, রায়পুরা থানার তদন্ত কর্মকর্তা প্রবীর কুমার ঘোষসহ আরও অনেকে।


এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধূরী নরসিংদী পুলিশ লাইন্স পরিদর্শনে এসে জানিয়েছিলেন, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে সন্ত্রাস দমনে চিরুনি অভিযান চালানো হবে। এদিন তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে সবচেয়ে বড় সমস্যা, সেখানে সন্ত্রাসীদের আড্ডা ও অসংখ্য হাতিয়ার রয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবকে নিয়ে একটি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইতিমধ্যে অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধীরা এখন টেঁটা থেকে হাতিয়ারে চলে গেছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব কম্বিং (চিরুনি) অপারেশন করে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page